দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জোট গঠনের যৌথ ঘোষণাপত্রে ১৫টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে ১৩টি দেশ নিজেদের জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জোটের সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিয়েছে।
জোটে যোগ দেওয়া দেশগুলো হলো—বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।
গত ৩০ জুলাই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠনের ঘোষণা দেয়। এর লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলিত নৌ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট। একই লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যেকোনো দেশ এতে যোগ দিতে পারবে। ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি দেশের সদস্যপদের আবেদন পাওয়ার কথাও জানিয়েছে রিয়াদ।
১৩ আগস্ট জেদ্দায় জোটের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বৈঠকের মাধ্যমে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যক্রমভিত্তিক যাত্রা শুরু হলো।
জোটের সদস্যরা পরস্পরের মধ্যে তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করবে। পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও যৌথ নৌ অভিযান পরিচালনার বিষয়েও কাজ করা হবে।
জোটের কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এ জোটের ঘোষণা এলো। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের হামলায় লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব ও এডেন উপসাগরীয় রুটে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ ও তেল স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, জোটটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই এর গুরুত্ব নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, এর আগে এডেন উপসাগরে জলদস্যুতা মোকাবিলায় একাধিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর কিছু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক উদ্যোগই প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি।
নাগির মতে, নতুন জোটের প্রধান লক্ষ্য হুথিদের হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি এসব হামলাকে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা সমস্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, আপাতত এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব আরও সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত জোটটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলো রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে কতটা বাস্তব সামরিক সহযোগিতা ও কার্যকর নৌ নিরাপত্তায় রূপ দিতে পারে তার ওপর।
সূত্র- আল জাজিরা
এমএস/